1. tarekahmed884@gmail.com : adminsonali :
শুক্রবার, ১৯ এপ্রিল ২০২৪, ০৯:৩৪ অপরাহ্ন
Title :
১৫ বছর বয়সী পেসার হাবিবাকে নিয়ে ভারতের মুখোমুখি বাংলাদেশ ব্রাজিল থেকে গরু আমদানির পক্ষে ব্যবসায়ীরা, আপত্তি খামারিদের জমিয়তে উলামায়ে ইসলাম বাংলাদেশের কেন্দ্রীয় কর্মসূচি এর অংশ হিসেবে সম্মানিত রোজাদারগণের মধ্যে ইফতার বিতরণ এইচএসসি শুরু হতে পারে ৩০ জুন, ফরম পূরণ ১৬ এপ্রিল থেকে আলুর দাম বাড়ছে, এবার মৌসুম শেষ হওয়ার আগেই কেন বাজার চড়া এবার ঢাকার বাজারেও পেঁয়াজের বড় দরপতন পবিত্র রমজানে কলেজ খোলা কত দিন সার্বিক উন্নয়নে নারী-পুরুষের সমান অংশগ্রহণ প্রয়োজন: প্রধানমন্ত্রী সুবিধাবঞ্চিত পরিবারের মধ্যে নগদ ৬ হাজার টাকা করে তুলে দিচ্ছেন পাইলগাঁও ইউপি চেয়ারম্যান হাজী মোঃ মখলুছ মিয়াসহ অতিথিরা পূবালী ব্যাংক যোগীডহর শাখা মৌলভীবাজার সি. আর. এম. বুথ এর শুভ উদ্বোধন।

বড় ঝুঁকির মুখে তিন সেতু

  • Update Time : শুক্রবার, ১৩ আগস্ট, ২০২১
  • ৬০৫ Time View

দৈনিক মৌলভীবাজার সোনালী কণ্ঠ নিউজ ডট কম

পটুয়াখালী-কুয়াকাটা সড়কের শেখ কামাল, শেখ জামাল ও শেখ রাসেল সেতুর ওপর এমনিতেই ভারী যানবাহন চলাচল বেড়েছে। আবার সেতু এলাকায় নদী থেকে অবৈধভাবে প্রচুর বালুও তোলা হচ্ছে। এতে তিনটি সেতুরই নদীর তলদেশে অবস্থিত পিলারগুলোর অবস্থান দুর্বল হয়ে যাচ্ছে। যে কারণে জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের তিন ছেলের নামে তৈরি করা তিনটি সেতুই এখন ঝুঁকিতে পড়ছে এবং এগুলোর স্থায়িত্ব দ্রুত কমে যাচ্ছে।

পরিকল্পনা মন্ত্রণালয়ের বাস্তবায়ন, পরিবীক্ষণ ও মূল্যায়ন বিভাগের (আইএমইডি) এক প্রতিবেদনে এসব তথ্য উঠে এসেছে। এতে বলা হয়েছে, সেতু নির্মাণের কারণে দুই পাশে চর পড়ে নদী সংকুচিত হয়ে পড়েছে। ড্রেজিং না করার কারণে নৌ চলাচলও বাধাগ্রস্ত হচ্ছে। উদ্বোধনের অল্প কিছুদিন পর থেকেই সেতুর ওপর স্থাপিত সব কটি লাইটও অকেজো রয়েছে।

সড়ক ও জনপথ (সওজ) অধিদপ্তরের তথ্য অনুযায়ী পটুয়াখালী থেকে কুয়াকাটা পর্যন্ত সরাসরি সড়ক যোগাযোগ গড়ে তুলতে সরকার ২০১২ সালে সেতু তিনটি নির্মাণের কাজ শুরু করে। এর মধ্যে কলাপাড়ায় আন্ধারমানিক নদের ওপর ৮৯২ মিটার দৈর্ঘ্যের শেখ কামাল সেতু, হাজীপুরে সোনাতলা নদীর ওপর ৪৮২ মিটারের শেখ জামাল সেতু ও মহিপুরে খাপড়াভাঙ্গা নদীর ওপর ৪০৮ মিটারের শেখ রাসেল সেতু তৈরি করা হয়। তিনটি সেতু নির্মাণে ব্যয় হয় ১৭৫ কোটি টাকা। ২০১৫ সালের ২০

আগস্ট শেখ রাসেল সেতু এবং পরের বছরের ২৫ ফেব্রুয়ারি শেখ কামাল ও শেখ জামাল সেতু উদ্বোধন করা হয়।

উদ্বোধনের পাঁচ বছর পর সেতুগুলোর ওপর একটি সমীক্ষা করে সরকারের উন্নয়ন প্রকল্প নজরদারি করা একমাত্র সংস্থা আইএমইডি, যাতে বর্তমান অবস্থা দেখা যায়। আইআরজি ডেভেলপমেন্ট সার্ভিসেসের সঙ্গে যৌথভাবে গত এপ্রিল-জুন মাসে সমীক্ষাটি করা হয়।

আইএমইডির প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, তিনটি সেতু হওয়ার ফলে ওই এলাকার যোগাযোগব্যবস্থার আমূল পরিবর্তন হয়েছে। কুয়াকাটা ঘিরে পর্যটন খাতের ব্যাপক বিকাশ ঘটেছে। সেখানে নতুন নতুন হোটেল-মোটেল, রেস্তোরাঁসহ পর্যটনকেন্দ্রিক ব্যবসা-বাণিজ্য বাড়ছে। এর ফলে স্থানীয় অর্থনীতি উন্নত হচ্ছে।

আইএমইডির কর্মকর্তারা বলছেন, ৫০ বছর স্থায়িত্বের তিনটি সেতু মাত্র পাঁচ বছরের মাথায়ই ঝুঁকির মুখে পড়েছে। কারণ, সেতুগুলো তৈরির আগে বিস্তারিত সমীক্ষা করা হয়নি। নকশা তৈরির আগে পুরো এলাকার বর্তমান এবং ৫০ বছর পরের ট্রাফিক চাহিদা মূল্যায়ন করে সেতুর লেনসহ নকশা ঠিক করা উচিত ছিল। কিন্তু এসব সেতু তৈরিতে দীর্ঘমেয়াদি প্রভাব ভাবা হয়নি।

এ ছাড়া সেতু তিনটির কাজ যখন শুরু হয়, তখন পটুয়াখালীতে পায়রা বন্দর, পায়রা বিদ্যুৎকেন্দ্রসহ বড় বড় অবকাঠামোর নির্মাণকাজ চলছিল। তাই সেতু তিনটির ওপর কী রকম চাপ পড়তে পারে, তা ভাবা উচিত ছিল। আইএমইডি বলছে, ২০১৩ থেকে ২০১৯ সাল পর্যন্ত ওই এলাকায় যে হারে ট্রাফিক বেড়েছে, সেটা বিবেচনায় নিলে এবং অন্যান্য প্রকল্প চালু হলে আগামী পাঁচ থেকে সাত বছরের মধ্যে সেতুগুলোর পক্ষে ক্রমবর্ধমান যানবাহনের চাপ নেওয়া কঠিন হবে। তাই প্রকল্প এলাকায় যোগাযোগব্যবস্থা এবং উন্নয়ন কার্যক্রম চলমান রাখতে প্রয়োজনীয় নতুন সেতু নির্মাণের পরিকল্পনা করা প্রয়োজন বলে মনে করে আইএমইডি।

তিনটি সেতু চালুর আগে ও পরে পটুয়াখালী কুয়াকাটা সড়কে যানবাহন চলাচলের একটি তুলনামূলক চিত্রও দিয়েছে আইএমইডি। তাতে দেখা গেছে, ২০১৩ সালে ওই সড়কে একটিও ভারী ট্রাক চলাচল করত না। এখন সেই সড়কে গড়ে দৈনিক ৮০টি ট্রাক চলাচল করছে। ২০১৩ সালে যেখানে দৈনিক মধ্যম মানের ট্রাক চলত ৭৫টি, তা বেড়ে এখন ২০০ হয়েছে। একইভাবে ছোট ট্রাকও ২০টি থেকে বেড়ে ৬০০, বড় বাস ৮০টি থেকে ১৬০টি, মাঝারি মানের বাস ১৭ থেকে দেড় শতাধিক, মাইক্রোবাস ৫৪ থেকে ২০০, ব্যক্তিগত গাড়ি ১৭ থেকে ৮০-তে উঠেছে।

আইএমইডির প্রতিবেদন বলছে, চালুর পাঁচ বছর পরে এসেও তিনটি সেতুতে টোল আদায় করা হচ্ছে হাতে হাতে টোকেনের মাধ্যমে। এতে সময় লাগছে বেশি। অনিয়মেরও সুযোগ থাকছে। তিনটি সেতুতে অতিরিক্ত ভারবহনকারী যান চলাচল নিয়ন্ত্রণের জন্য কোনো এক্সেল লোড কন্ট্রোল স্টেশন নেই। যে কারণে জানা যাচ্ছে না, কতটা ভারী যানবাহন চলাচল করছে। সেতুর দুই পাশে ও নিচে অনেক অবৈধ স্থাপনা গড়ে উঠেছে। এ ছাড়া একটি সেতুর ওপরও রাতের বেলায় আলো জ্বলে না। কারণ, সব কটি সোলার লাইট নষ্ট। ব্যাটারি সব অকেজো হয়ে গেছে।

সার্বিক বিষয়ে জানতে চাইলে সড়ক ও জনপথ (সওজ) অধিদপ্তরের প্রধান প্রকৌশলী আবদুস সবুর বলেন, ‘আইএমইডির প্রতিবেদনটি আমরা হাতে পেয়েছি। আমি এরই মধ্যে সেতুতে আলোর ব্যবস্থা করার নির্দেশ দিয়েছি। টোল আদায় ডিজিটালাইজ করা হবে শিগগিরই।’ তিনটি সেতুর আবেদন কমে যাওয়া প্রসঙ্গে তিনি বলেন, সেতু তিনটি এখন দুই লেনের। বরিশাল থেকে কুয়াকাটা পর্যন্ত চার লেনের সড়ক নির্মিত হবে। তখন এখানে আলাদা করে চার লেনের সেতু নির্মিত হবে।আন্ধারমানিকে শেখ কামাল সেতু

আন্ধারমানিকে শেখ কামাল সেতু

আইএমইডি বলছে, কলাপাড়া উপজেলার আন্ধারমানিক নদে শেখ কামাল সেতুর দুই পাশেই প্রায় অর্ধেক অংশে চর পড়েছে। এতে নদীর প্রশস্ততা কমে গেছে। ফলে নদীপথ সংকুচিত হয়ে পড়েছে। সেতুর নিচে নদীর উভয় পাশে অবৈধ স্থাপনা গড়ে তোলা হয়েছে, অবৈধভাবে বালুর জমজমাট ব্যবসা চলছে।

সোনাতলায় শেখ জামাল সেতু

পটুয়াখালী-কুয়াকাটা সড়কের হাজীপুরে সোনাতলা নদীর ওপর সেতুটি নির্মাণ করা হয়েছে। সেতুর ড্রেনের ব্যবস্থাপনা অত্যন্ত দুর্বল। পুরো ড্রেন ময়লায় ভরা। সেতুটির নকশায় দুর্বলতা ছিল। সেতুর উপরিভাগ যানবাহন চলাচলের জন্য আরামপ্রদ নয়। ফলে মূল স্প্যানের উভয় পাশে হঠাৎ করে লেভেল ডাউন হয়ে আসে। এ কারণে দ্রুতগতির চলমান যানবাহন ঝাঁকুনি খায়। সেতুটিতে দুর্ঘটনার আশঙ্কা রয়েছে। নির্মাণ-পরবর্তী রক্ষণাবেক্ষণেও মারাত্মক ঘাটতি আছে। হাজীপুর প্রান্তে সেতুর দুই পাশেই চর পড়েছে। ফলে নদীর প্রশস্ততা কমে নৌপথ সংকুচিত হয়েছে। উভয় তীরে অবৈধ স্থাপনা

ও বালু ব্যবসা গড়ে উঠেছে।

খাপড়াভাঙ্গায় শেখ রাসেল সেতু

খাপড়াভাঙ্গা নদীর ওপর তৈরি করা হয় শেখ রাসেল সেতু। এই নদীরও প্রশস্ততা কমে গেছে। চারপাশ থেকে বালু তোলা হচ্ছে। তাই সেতু রক্ষায় অবৈধ বালু তোলা বন্ধের পরামর্শ দেওয়া হয়েছে প্রতিবেদনে।

এদিকে যোগাযোগ করা হলে পটুয়াখালী জেলা প্রশাসক কামাল হোসেন জানান, তিনটি নদীর চারপাশ থেকে বালু তোলার কোনো খবর তাঁর জানা নেই। অবশ্য প্রথম আলোর নিজস্ব প্রতিনিধিও ওই তিনটি নদী থেকে বালু তোলার বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।
জানতে চাইলে সমীক্ষার টিম লিডার সুখরঞ্জন সুতার বলেন, এই প্রকল্পে ১৩ জন প্রকল্প পরিচালক (পিডি) দায়িত্ব পালন করেন। তাঁরা সবাই ছিলেন খণ্ডকালীন। প্রকল্প সংশোধিত হয়েছে তিনবার। তিনটি সেতু নির্মাণে প্রাক্কলিত ব্যয়ের চেয়ে ৪৫ কোটি টাকা বেশি খরচ হয়েছে। প্রকল্পের মেয়াদ বাড়ানো হয়েছে ৬৬ মাস, অর্থাৎ সাড়ে পাঁচ বছর।

আইএমইডি বলছে, প্রকল্প গ্রহণের আগে সম্ভাব্যতা সমীক্ষা করা হয়নি। সমীক্ষা করে সেতু নির্মাণ

করলে এলাকার আর্থসামাজিক অবস্থা বোঝা সহজ হতো।

বিজ্ঞাপন বিজ্ঞাপন বিজ্ঞাপন

বিজ্ঞাপন বিজ্ঞাপন বিজ্ঞাপন

Open photo   Open photo

বিজ্ঞাপন বিজ্ঞাপন বিজ্ঞাপন

Open photo   Open photo

Please Share This Post in Your Social Media

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

More News Of This Category
© All rights reserved © 2021 SonaliKantha
Theme Customized By BreakingNews