1. tarekahmed884@gmail.com : adminsonali :
বুধবার, ০৮ ফেব্রুয়ারী ২০২৩, ০১:০৬ অপরাহ্ন

টিকায় পিছিয়ে বিশ্ববিদ্যালয়শিক্ষার্থীরা

  • Update Time : শুক্রবার, ১৭ সেপ্টেম্বর, ২০২১
  • ৩৮৭ Time View

দৈনিক মৌলভীবাজার সোনালী কণ্ঠ নিউজ ডট কম

এর বাইরে অন্যান্য পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়, বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়, জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় অধিভুক্ত কলেজসহ বিভিন্ন পর্যায়ের উচ্চশিক্ষা প্রতিষ্ঠানে ৩৯ লাখের বেশি শিক্ষার্থী রয়েছে, যাঁদের টিকাসংক্রান্ত তথ্য ইউজিসির কাছে আসেনি।

করোনা সংক্রমণ পরিস্থিতির কারণে গত বছরের ১৭ মার্চ থেকে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে ছুটি শুরু হয়েছিল। এর মধ্যে ১২ সেপ্টেম্বর প্রাথমিক থেকে উচ্চমাধ্যমিক স্তরের সব ধরনের শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে সশরীর ক্লাস শুরু হয়েছে। পরদিন থেকে মেডিকেল কলেজও খুলেছে। ইতিমধ্যে মেডিকেল কলেজের শিক্ষার্থীদের বেশির ভাগ টিকার আওতায় এসেছে। অন্যদিকে শিক্ষার্থীদের টিকা নিবন্ধনের বিষয়টি নিশ্চিত হলে বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ চাইলে ২৭ সেপ্টেম্বরের পর বিশ্ববিদ্যালয়ও খুলে দেওয়ার সিদ্ধান্ত হয়েছে।

টিকা দিতে বিশেষ উদ্যোগ

বিশ্ববিদ্যালয় পর্যায়ের শিক্ষার্থীদের টিকার নিবন্ধনের জন্য একটি ‘ওয়েবলিংক’ চালু করেছে ইউজিসি। যেসব শিক্ষার্থীর জাতীয় পরিচয়পত্র (এনআইডি) নেই, তাঁরা জন্মনিবন্ধন সনদ দিয়ে এই লিংকে গিয়ে টিকার জন্য প্রাথমিক নিবন্ধন করতে পারবেন। এরপর এসব শিক্ষার্থীর তথ্য স্বাস্থ্য বিভাগকে দেবে ইউজিসি। তখন শিক্ষার্থীরা করোনার টিকা–সংক্রান্ত সুরক্ষা অ্যাপে গিয়ে সহজেই টিকা নিবন্ধনের কাজটি করতে পারবেন।

ইউজিসি জানিয়েছে, গতকাল রাতে ‘ওয়েবলিংকটি’ (https://univac.ugc.gov.bd) চালুর কথা। এর মাধ্যমে ২৭ সেপ্টেম্বরে মধ্যে শিক্ষার্থীদের নিবন্ধন করতে হবে। যেসব শিক্ষার্থীর জাতীয় পরিচয়পত্র আছে, তাঁরাও এই লিংক ব্যবহার করে সুরক্ষা অ্যাপের সঙ্গে সংযুক্ত হয়ে টিকার নিবন্ধন করতে পারবেন।

এ বিষয়ে ইউজিসির সদস্য (পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়) অধ্যাপক দিল আফরোজা বেগম প্রথম আলোকে বলেন, যাঁদের এখনো জন্মনিবন্ধন সনদ নেই, তাঁরা যেন দ্রুত জন্মনিবন্ধন সনদ করে নিবন্ধনের কাজটি করেন।

এখন ১৮ বছরের বেশি বয়সী যে কেউ করোনার টিকা নিতে পারছেন। ফলে কলেজগুলোর শিক্ষার্থীরাও করোনার টিকা নিতে পারছেন।

ইউজিসির সচিব ফেরদৌস জামান স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের বরাত দিয়ে প্রথম আলোকে বলেন, বিশ্ববিদ্যালয়, কলেজসহ বিভিন্ন ধরনের শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান মিলিয়ে উচ্চশিক্ষায় এখন মোট শিক্ষার্থী আছেন ৪১ লাখের মতো। গত বুধবার পর্যন্ত সাড়ে ১৭ লাখের মতো শিক্ষার্থী করোনার টিকার জন্য নিবন্ধন করেছেন। তাঁদের মধ্যে প্রথম ডোজ টিকা নিয়েছেন সাড়ে চার লাখের মতো শিক্ষার্থী। আর দ্বিতীয় ডোজ টিকা নিয়েছেন ৯২ হাজারের মতো শিক্ষার্থী। যাঁদের মধ্যে ৮০ হাজারের কিছু বেশি শিক্ষার্থী আবাসিক হলের শিক্ষার্থী।

পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়গুলোতে ২২০টি আবাসিক হলে মোট শিক্ষার্থী আছেন প্রায় ১ লাখ ৩০ হাজার শিক্ষার্থী। বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষের মূল উদ্বেগের বিষয় হলো আবাসিক হলগুলোতে অনেক শিক্ষার্থী থাকেন একই বিছানায় দুজন করে। এমনকি অনেক কক্ষে মেঝেতেও থাকেন। আছে ‘গণরুম’, যেখানে এক কক্ষে অনেক শিক্ষার্থী থাকেন।

তথ্য পাওয়া গেছে ২৪ বিশ্ববিদ্যালয়ের

ইউজিসির সূত্রমতে, যে ২৪টি বিশ্ববিদ্যালয়ের তথ্য পাওয়া গেছে, সেগুলোর মধ্যে আছে যশোর বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়। এই বিশ্ববিদ্যালয়ের একজন কর্মকর্তা গতকাল প্রথম আলোকে বলেন, তাঁদের বিশ্ববিদ্যালয়ে মোট শিক্ষার্থী প্রায় চার হাজার। তাঁদের মধ্যে তথ্য পাওয়া শিক্ষার্থীদের মধ্যে ২ হাজার ৬২৯ জন টিকার জন্য নিবন্ধন করেছেন। টিকা নিতে পেরেছেন ৯১০ জন। দ্বিতীয় ডোজ নেওয়া শিক্ষার্থী ৩৯৫ জন। আর এনআইডি নেই ২১৯ জনের এবং ৩৪৭ জন নিবন্ধন করেননি।

রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ে খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, বিশ্ববিদ্যালয়টিতে স্নাতক (সম্মান) ও স্নাতকোত্তর স্তরে মোট শিক্ষার্থী ২০ থেকে ২১ হাজার। তাঁদের মধ্যে ১৬ হাজারের কিছু বেশি শিক্ষার্থী টিকার জন্য নিবন্ধন করেছেন। এর মধ্যে সাড়ে ১২ হাজারের মতো টিকা পেয়েছেন। তবে সব পর্যায়ের শিক্ষার্থী মিলিয়ে বিশ্ববিদ্যালয়টিতে মোট শিক্ষার্থী আরও বেশি।

জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ে ৩৯টি বিভাগ ও ইনস্টিটিউটে মোট শিক্ষার্থী প্রায় ১৩ হাজার। তাঁদের মধ্যে ৩৩টি বিভাগের তথ্য পেয়েছে ইউজিসি। বিভাগগুলো জানিয়েছে, অর্ধেক শিক্ষার্থী দ্বিতীয় ডোজ টিকা নিয়েছেন।

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ ১৩ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত ইউজিসির কাছে তালিকা না দিলেও গতকাল বিশ্ববিদ্যালয়–সংশ্লিষ্ট দপ্তরে খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, প্রায় ৫২ শতাংশের কিছু বেশি শিক্ষার্থী এখন পর্যন্ত অন্তত প্রথম ডোজ টিকা পেয়েছেন। বিশ্ববিদ্যালয়ের মোট শিক্ষার্থী প্রায় ৩৮ হাজার। অনেকে নিবন্ধন করে টিকার জন্য অপেক্ষা করছেন।

ইউজিসিকে তথ্য দেওয়ার তালিকায় আরও আছে চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়, বাংলাদেশ প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয় (বুয়েট), খুলনা বিশ্ববিদ্যালয়, জাতীয় কবি কাজী নজরুল ইসলাম বিশ্ববিদ্যালয়, কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়, বাংলাদেশ ইউনিভার্সিটি অব প্রফেশনালস, রবীন্দ্র বিশ্ববিদ্যালয়, শেখ হাসিনা বিশ্ববিদ্যালয়, বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়, চট্টগ্রাম ভেটেরিনারি অ্যান্ড অ্যানিমেল সায়েন্সেস বিশ্ববিদ্যালয়, রাজশাহী প্রকৌশল ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়, শাহজালাল বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়, মাওলানা ভাসানী বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়, পটুয়াখালী বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়, পাবনা বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়, রাঙামাটি বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়, বঙ্গমাতা শেখ ফজিলাতুন্নেছা মুজিব বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়, বঙ্গবন্ধু শেখ

মুজিবুর রহমান মেরিটাইম ইউনিভার্সিটি, বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান ডিজিটাল ইউনিভার্সিটি, বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান এভিয়েশন অ্যান্ড অ্যারোস্পেস বিশ্ববিদ্যালয় এবং খুলনা কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়।

জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, তাদের অধিভুক্ত শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের শিক্ষার্থীসহ যাঁরা এখনো টিকা নেননি, তাঁদের ২৭ সেপ্টেম্বরের মধ্যে সুরক্ষা অ্যাপে নিবন্ধন সম্পন্ন করে টিকা নিতে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। এ জন্য গতকাল বিশ্ববিদ্যালয়ের পক্ষ থেকে জরুরি নির্দেশনা অধিভুক্ত সব শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে পাঠানো হয়েছে।

বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের টিকায় পিছিয়ে থাকার বিষয়ে জানতে চাইলে সরকারের রোগতত্ত্ব, রোগনিয়ন্ত্রণ ও গবেষণা ইনস্টিটিউটের (আইইডিসিআর) পরামর্শক মুশতাক হোসেন প্রথম আলোকে বলেন, এত দিন মূলত পর্যাপ্ত টিকার অভাবেই সব শিক্ষার্থীকে টিকা দেওয়া যায়নি। তবে টিকা নিলেই হবে না। সবচেয়ে জরুরি হলো স্বাস্থ্যবিধি মানা। বিশ্ববিদ্যালয় খুললে এ বিষয়ে কোনো ছাড় দেওয়া যাবে না।

বিজ্ঞাপন বিজ্ঞাপন বিজ্ঞাপন

Open photo   Open photo

বিজ্ঞাপন বিজ্ঞাপন বিজ্ঞাপন

Open photo   Open photo

বিজ্ঞাপন বিজ্ঞাপন বিজ্ঞাপন

Open photo   Open photo

Please Share This Post in Your Social Media

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

More News Of This Category
© All rights reserved © 2021 SonaliKantha
Theme Customized By BreakingNews