1. tarekahmed884@gmail.com : adminsonali :
বুধবার, ০৮ ফেব্রুয়ারী ২০২৩, ০১:১৫ অপরাহ্ন

টিকা পেয়েছে এক লাখ শিশু, নিবন্ধনে জটিলতা

  • Update Time : বৃহস্পতিবার, ১১ নভেম্বর, ২০২১
  • ৩২২ Time View

দৈনিক মৌলভীবাজার সোনালী কণ্ঠ নিউজ ডট কম

  • ১২ থেকে ১৭ বছর বয়সী শিশু-শিক্ষার্থীদের টিকাদান পরিকল্পনা অনুযায়ী এগোচ্ছে না।

ঢাকার আটটি কেন্দ্রের প্রতিটিতে দিনে ৫ হাজার করে প্রায় ৪০ হাজার শিক্ষার্থীকে করোনার টিকা দেওয়ার পরিকল্পনা হাতে নিয়েছিল সরকার। এই হিসাবে ১ থেকে ৯ নভেম্বর পর্যন্ত ৯ দিনে ১২ থেকে ১৭ বছর বয়সী ৩ লাখ ৬০ হাজার শিক্ষার্থীকে টিকা দেওয়ার কথা। কিন্তু দেওয়া গেছে ১ লাখ ৪৫৫ জনকে।

টিকা দেওয়ার কাজে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা বলছেন, নিবন্ধনপ্রক্রিয়া ও টিকা দেওয়ার ব্যবস্থাপনায় কিছু জটিলতার কারণে পরিকল্পনা অনুযায়ী আগানো যাচ্ছে না। নিবন্ধনগত জটিলতার কারণে অভিভাবকদের কেউ কেউ অসন্তুষ্ট। তাঁরা চান, এ জন্য নিবন্ধনপ্রক্রিয়া আরও সহজ করা এবং বড়দের মতো সুরক্ষা অ্যাপ থেকেই সরাসরি শিশুশিক্ষার্থীদেরও খুদে বার্তা পাঠিয়ে টিকার তারিখ জানানোর ব্যবস্থা করা হোক।

দেশে ১ নভেম্বর আনুষ্ঠানিকভাবে শিশুশিক্ষার্থীদের করোনার টিকা দেওয়া শুরু করে সরকার। এর আগে গত মাসে মানিকগঞ্জে পরীক্ষামূলকভাবে শিক্ষার্থীদের টিকা দেওয়া হয়। এখন কেবল ঢাকার আটটি কেন্দ্রে এই টিকা দেওয়া হচ্ছে। শিশুরা পাচ্ছে ফাইজারের টিকা।

শিশুশিক্ষার্থীদের টিকাদানের উদ্বোধনের দিন স্বাস্থ্যমন্ত্রী জাহিদ মালেক জানিয়েছিলেন, দিনে প্রায় ৪০ হাজার শিশুকে টিকা দেওয়ার পরিকল্পনা হাতে নেওয়া হয়েছে।

শিশুশিক্ষার্থীদের টিকা দেওয়া হচ্ছে জন্মনিবন্ধন সনদ ব্যবহার করে নিবন্ধনের মাধ্যমে। এই ব্যবস্থায় শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলো শিক্ষার্থীদের জন্মনিবন্ধন সনদ নম্বরসহ প্রয়োজনীয় কিছু তথ্য সংগ্রহ করে সেগুলো মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা অধিদপ্তরে (মাউশি) পাঠায়। এরপর অধিদপ্তর সেগুলো যাচাই করে পাঠায় তথ্য ও যোগাযোগপ্রযুক্তি (আইসিটি) বিভাগে। সেসব তথ্য নিবন্ধন ব্যবস্থায় অন্তর্ভুক্ত করার পর তালিকাভুক্ত শিক্ষার্থীরা টিকার জন্য নিবন্ধন করতে পারে।

এই নিবন্ধন ব্যবস্থায় সরাসরি টিকাকেন্দ্রের নাম দেওয়া যায় না। সুরক্ষা অ্যাপে কেবল দুটি কেন্দ্রের নাম থাকে। এর মধ্যে ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশন এলাকার শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের ক্ষেত্রে ‘ঢাকা স্কুল কেন্দ্র (উত্তর)’ এবং দক্ষিণ সিটি করপোরেশন এলাকার শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের জন্য ‘ঢাকা স্কুল কেন্দ্র (দক্ষিণ)’ কেন্দ্র নির্বাচন করতে হয়। এভাবে নিবন্ধন করার পর সেই তথ্য আবার শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলোতে জানানো হয়। তখন বিদ্যালয়গুলো শিক্ষার্থীদের টিকা দেওয়ার জন্য ঢাকায় নির্ধারিত আটটি কেন্দ্রের মধ্যে যাদের যে কেন্দ্রে টিকা দিতে হবে, সেই কেন্দ্রের নাম ও তারিখ জানিয়ে দেয়। এরপর শিক্ষার্থীরা টিকা নেয়।

মাউশির এডুকেশন ম্যানেজমেন্ট ইনফরমেশন সিস্টেম বা ইএমআইএস সেলের জ্যেষ্ঠ সিস্টেম অ্যানালিস্ট খন্দকার আজিজুর রহমান  তাঁদের ধারণা, ঢাকা মহানগরে ১২ থেকে ১৭ বছর বয়সী শিক্ষার্থী আছে ছয় লাখের মতো। গত মঙ্গলবার পর্যন্ত যত শিক্ষার্থীর তথ্য তাঁরা পেয়েছেন, তার মধ্যে যাচাই-বাছাই করে ৪ লাখ ৩৪ হাজার ৬৯৫ জন শিক্ষার্থীর তথ্য আইসিটি বিভাগে পাঠানো হয়েছে।

দেশে ১২ থেকে ১৭ বছর বয়সী শিক্ষার্থীর সংখ্যা কত, তার সুনির্দিষ্ট তথ্য নেই মাউশির হাতে। তবে অধিদপ্তরটির একজন কর্মকর্তা জানান, ষষ্ঠ থেকে একাদশ শ্রেণিতে পড়ুয়া শিক্ষার্থী আছে কমবেশি ১ কোটি ২০ লাখ। যাদের মধ্যে অধিকাংশের বয়স ১২ থেকে ১৭ বছর। সরকারের লক্ষ্য এসব শিক্ষার্থীকে টিকা দেওয়া।

কিছু জটিলতা

আদৃতা কিবরিয়া পড়ে রাজধানীর প্লে পেন স্কুলে, নবম শ্রেণিতে। তার জন্মনিবন্ধন সনদ ১৬ সংখ্যার হওয়ায় সে নিবন্ধন করতে পারেনি। কারণ, সুরক্ষা অ্যাপে নিবন্ধন করতে হলে জন্মনিবন্ধন সনদের নম্বর লাগে ১৭ সংখ্যার। তার অভিভাবকেরা জানান, আদৃতা ডিজিটাল ব্যবস্থার আগে জন্মনিবন্ধন করায় তার সনদের নম্বরটি ১৭ সংখ্যার হয়নি।

মাউশির একজন দায়িত্বশীল কর্মকর্তা প্রথম আলোকে বলেন, যেসব শিক্ষার্থীর তথ্য আসছে তাতে দেখা যায়, ১০ শতাংশের মতো ভুল তথ্য আসছে। এর মধ্যে জন্মনিবন্ধন সনদের সংখ্যা এবং তারিখ নিয়েই বেশি সমস্যা হচ্ছে। কারণ, বিদ্যমান নিয়ম হলো, জন্মনিবন্ধনের নম্বর ১৭ সংখ্যার না হলে নিবন্ধন করা যায় না। কিন্তু অনেকে ১৬ সংখ্যার তথ্য দিয়েও তালিকা পাঠাচ্ছে।

আইসিটি বিভাগ সূত্র বলছে, ১৭ সংখ্যার জন্মনিবন্ধন সনদ ছাড়া নিবন্ধনের সুযোগ নেই। তাই যাদের ১৬ সংখ্যার জন্মনিবন্ধন সনদ রয়েছে, তাদের জন্মনিবন্ধন কর্তৃপক্ষের কাছ থেকে সেটি ১৭ সংখ্যায় রূপান্তর করিয়ে নিয়ে আসতে হবে।

নিবন্ধন নিয়ে দীর্ঘসূত্রতার অভিযোগও রয়েছে। রাজধানীর মতিঝিলে অবস্থিত আইডিয়াল স্কুল অ্যান্ড কলেজে গেলে কলেজটির অধ্যক্ষ শাহান আরা বেগম  বলেন, তাঁদের প্রতিষ্ঠানের ৮ হাজার ১৪৯ জন শিক্ষার্থী নিবন্ধন করতে পেরেছে। বাকি আরও ৭ হাজার ৬৪২ জনের তথ্য মাউশিতে পাঠানো হয়েছে। তবে এখনো এসব শিক্ষার্থী নিবন্ধন করতে পারেনি।

আইডিয়াল স্কুল অ্যান্ড কলেজে টিকা দেওয়ার কেন্দ্র আছে। গতকাল বুধবার বেলা পৌনে তিনটার দিকে সেখানে গেলে দায়িত্বরত ব্যক্তিরা জানান, এদিন মোট ৪ হাজার ৩১৪ জন শিক্ষার্থীকে টিকা দেওয়া হয়েছে। এর মধ্যে ছাত্রী ২ হাজার ৮৮০ এবং ছাত্র ১ হাজার ৪৩৪ জন।

প্রাপ্তবয়স্কদের টিকা দেওয়ার ক্ষেত্রে সুরক্ষা অ্যাপে নিবন্ধনের পর খুদে বার্তা পাঠিয়ে টিকা দেওয়ার তারিখ ও কেন্দ্র জানিয়ে দেওয়া হয়। কিন্তু শিশুশিক্ষার্থীদের টিকার তারিখ ও কেন্দ্রের নাম শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান থেকে জানতে হচ্ছে। এর ফলে কিছু জটিলতাও হচ্ছে বলে জানালেন মাউশির একাধিক কর্মকর্তা। কারণ, এত তথ্যভান্ডার ব্যবস্থাপনার সক্ষমতা অধিকাংশ শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের নেই।

ঢাকায় শিক্ষার্থীদের টিকা দেওয়ার কাজের তদারকির দায়িত্বে থাকা কর্মকর্তাদের একজন মাউশির পরিচালক (কলেজ ও প্রশাসন) মো. শাহেদুল খবীর চৌধুরী। তিনি  বলেন, টিকা দেওয়ার প্রক্রিয়া শুরুর পর তাঁরা বুঝতে পারছেন কিছু জটিলতা তৈরি হচ্ছে। সঙ্গে সঙ্গে এগুলো

সমাধানের চেষ্টা হচ্ছে। জন্মনিবন্ধন-সংক্রান্ত জটিলতা নিরসন করে সব শিক্ষার্থী যাতে টিকার জন্য নিবন্ধন করতে পারে, সে জন্যও চেষ্টা চলছে।

ঢাকার বাইরে শুরু হচ্ছে

শিগগিরই ঢাকার বাইরেও শিশুদের টিকা দেওয়া শুরু হতে যাচ্ছে। এ জন্য শিক্ষার্থীদের তথ্যও সংগ্রহ করা হচ্ছে। যেমন মানিকগঞ্জ থেকে ইতিমধ্যে ৬০ হাজার শিক্ষার্থীর তথ্য পেয়েছে মাউশি।

মাউশির মহাপরিচালক সৈয়দ গোলাম ফারুক প্রথম আলোকে বলেন, স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, ঢাকার বাইরে আরও ৪৭ জেলায় শিশুশিক্ষার্থীদের টিকা দেওয়ার সিদ্ধান্ত হয়েছে। পর্যায়ক্রমে আগামী সপ্তাহেই তা শুরু হতে পারে।

বিজ্ঞাপন বিজ্ঞাপন বিজ্ঞাপন

   

 

বিজ্ঞাপন বিজ্ঞাপন বিজ্ঞাপন

Open photo   Open photo

বিজ্ঞাপন বিজ্ঞাপন বিজ্ঞাপন

Open photo    Open photo

বিজ্ঞাপন বিজ্ঞাপন বিজ্ঞাপন

Open photo   Open photo

Please Share This Post in Your Social Media

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

More News Of This Category
© All rights reserved © 2021 SonaliKantha
Theme Customized By BreakingNews